শ ও ক ত আ লী র ক থা সা হি ত্য ‘সিরিয়াস’ মধ্যবিত্তের শিল্প

গল্পকার হিসেবে শওকত আলীর (জন্ম ১৯৩৬) উত্থান শেষ পঞ্চাশের দিকে বা প্রথম ষাটের দশকে। গ্রাম পটভূমে জীবনবাদী গল্পকার হিসেবে তার গল্পের চরিত্ররা প্রসারিত হয় প্রত্যন্ত সীমানায়। উত্তরের জনপদÑ সেখানকার ভূমি-মানুষ-ইতিহাস-নৃতত্ত্ব জড়িয়ে গল্পকথকের বিবরণ তৈরি হয়। হাড্ডিসার, রক্তশূন্যগ্রস্ত মানুষÑ জীবনের ঘানি টানে, উঠে দাঁড়ায়; সংঘবদ্ধ হয়Ñ তবু তার বিনাশ নেই শওকত আলীর গল্পে। সেখানে সমাজ-রাষ্ট্রের বৈষম্য, শ্রেণিশোষণ, নিরুপায় অসহায় মানুষের আর্তনাদ বিবৃত হয়। এ জন্য প্রথাবদ্ধ বা গৃহীত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ব্যঙ্গ-বিদ্রƒপের কথামালা শানিত সূচাগ্রে বাঁধা পড়ে। গল্পের প্রকৃতি, প্রতিপার্শ্বও নির্মিত হয় শোষণের কৌশল ও নিরুপায় মানুষের উঠে দাঁড়ানোর শক্তি অনুষঙ্গ করে। শ্লীল-অশ্লীল নীতিবোধে নয়, জীবনের আলো-অন্ধকারের স্বরূপ এবং তার নেপথ্যের ক্রিয়াকা- যাবতীয়রূপে সঙ্গত করে তোলেন তিনি। সেখানে কুৎসিত-বিকৃত সবকিছুই শিল্প হয়ে ওঠে। ক্ষুধা-ক্রোধের বর্ণিত আবহেই গল্পের শিল্পরূপ নিশ্চিত করেন। তবে স্মর্তব্য, শহুরে মধ্যবিত্ত জীবনও তার গল্পে কিছুতেই তিরোহিত নয়। শওকত আলীর উন্মূল বাসনার (১৯৬৮) গল্প উত্তরের মানুষদের অঙ্গীকৃত করে। সেখানকার নিসর্গচিত্রে প্রেম-কাম-অবদমন-ক্ষুধা-লোভ-হিংসা গল্পবৃত্তটি দানা বাঁধে। লেলিহান স্বাদ (১৯৭৭)-এ রয়েছে আটটি গল্প। বিশেষত মুক্তিযুদ্ধের গল্প ‘পুনর্বার বেয়নেট’ এবং ‘কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ’ অনবদ্য রচনা। ‘শুন হে লখিন্দর’ (১৯৮৬)-এর উক্তি ‘লখিন্দর, হামরা কিন্তুক আন্ধারে থাকি। আন্ধারে জন্ম, আন্ধারে বাঁচন, আন্ধারে মরণ।’ এতে গল্পের মেসেজ অস্পষ্ট নয়। প্রবণতাও লক্ষণযোগ্য হয়। তবে কায়েস আহমেদের একটি মন্তব্য এখানে প্রণিধানযোগ্য মনে করা যায় : ‘সব কিছুরই সুনির্দিষ্ট আয়ুষ্মানতা থাকে। এক সময় নিজের হাতে গড়া সৌধ নিজেকেই ভাঙতে হয়, শওকত আলী ভাঙেননি, যথাসম্ভব আভরণহীন সরল করতে চেয়েছেন তাকে, ফলে অতঃপর তার গল্প হয়ে উঠতে থাকে একরৈখিক, বক্তব্যনির্ভর, অনুজ্জ্বল, বৈচিত্র্য হৃতগৌরব।’ তবে এমনটা তো সত্যই, উন্মূল বাসনার পর তার অনেক লেখা সমাজমনস্কতাতেই পর্যবসিত। আর এখন তো মধ্যবিত্ত ঠাঁই নিয়েছে তার উপন্যাসের মধ্যে। আমরা এখানে মূলত লেখকের কিছু উপন্যাসের দিকে দৃকপাত করার চেষ্টা করব। এ ক্ষেত্রে নিশ্চয়ই গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাস ‘প্রদোষে প্রাকৃতজন’ (১৯৮৪) ছাড়াও থাকবে ত্রয়ী ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক রচনা যাত্রা।

আবু রুশদের নোঙর উপন্যাসের নায়ক ‘পবিত্র’ পাকিস্তানে নোঙর ফেলতে গিয়ে দেখেছিল : ‘সাহিত্য ঝাঁঝরা হয়ে গেছে; সংগীত স্তব্ধ, চিত্রকলা ক্লান্ত’। শওকত আলীর ট্রিলজি [দক্ষিণায়নের দিন (১৯৭৬), কুলায় কালস্রোত (১৯৭৭), পূর্বরাত্রি পূর্বদিন (১৯৭৮)]-তে একটা ক্রান্তিকাল অতিক্রমের পথে দাঁড়িয়ে গেছে ষাটের দশকের পূর্ববাংলার মানুষ। প্রতিরোধের সংগ্রামে অঙ্গীকারবদ্ধ সবাই, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ডাক দিচ্ছে শহর-নগর-বন্দর-গ্রামের আপামর জনগোষ্ঠীকে। কিন্তু কেন এ প্রতিরোধ? বাষট্টি, ছেষট্টিজুড়ে এ প্রতিরোধ আন্দোলন ঊনসত্তরে বিস্ফারিত রূপ প্রকাশ্য হয়ে উঠেছে। বাঙালি মুসলমান মধ্যবিত্ত পরিবারের প্রতিনিধি রাশেদ আহমেদ কি এর উত্তর জানেন? ষাটের দশকের উন্মাতাল রাজনীতিতে পাকিস্তানবিরোধী আন্দোলনে চলছে নানা মত ও পথের বিত-া। প্রতিটি চরিত্রের সঙ্গে রাজনীতি যেমন গাঁটছাড়া বেঁধেছে, তেমনি অস্তিত্ব সচেতন হয়ে অনেকই পুঁজির লালসায় মেতে উঠেছে। ট্রিলজির সেজান চরিত্রের মধ্যে ছাত্র আন্দোলনের অনৈক্যের প্রতিফলন নজরে আসে। মনিরের বন্ধু সেজান বাম রাজনীতির আত্মত্যাগী কর্মী। জেল-জুলুম-হুলিয়া মাথায় নিয়ে সে তৃণমূল পর্যায়ে রাজনৈতিক আন্দোলনে সচেষ্ট থাকে। সেজানের রাজনৈতিক মত তার সহযোদ্ধাদের মধ্যে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া পেলে সেজান জোর গলায় উচ্চারণ করে : ‘বামপন্থিদের নানা মত ও পথের সৃষ্টির কারণ, অনেকেই জাতীয়তাবাদের ধোয়া তোলে কিংবা সাম্রাজ্যবাদের সহযোগী বুর্জোয়াদের হাত মেলানোর চেষ্টায় তৎপর হয়। এ ছাড়া সামরিক সরকারও বিরোধী শিবিরে ভাঙন ধরানোর জন্য বিভিন্ন কায়দায় অপতৎপরতা চালায়। এক সময় ঢাকা ছেড়ে সেজান গ্রামেই ফিরে যায় পুরনো কমরেডদের মাঝে। বুর্জোয়া রাজনীতি জনগণকে কমিউনিকেট করতে পারে কিন্তু বাম রাজনীতির অনৈক্যের দোটানায় জনগণ থেকে ক্রমাগত পিছিয়ে পড়েছে।’ শওকত আলীর ট্রিলজিতে ষাটের দশককে এভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। একটি সময় ও ইতিহাসের মধ্য দিয়ে এ সময়ের মানুষগুলোর আশা-আকাক্সক্ষার চিত্র দেখানো হয়েছে। এটিই ওই সময়ের বাস্তবতা। তবে রাজনীতির পাশাপাশি প্রেম, দাম্পত্য জীবন, স্বপ্ন, স্বপ্নভঙ্গের বেদনা, ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা, ব্যক্তি বিচ্ছিন্নতা ইত্যাদি বিষয়গুলো মানবীয় প্রবৃত্তির আধারে চমৎকার পরিপ্রেক্ষিত পেয়েছে। প্রত্যেকটি মানুষ এখানে শিল্পের স্মারক হিসেবে চিহ্নিত। বস্তুত, তারা সময়েরই মিশেল।

মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা নিয়ে রচিত শওকত আলীর যাত্রা (১৯৭৬) উপন্যাস। অষ্টাধ্যায়ী এ উপন্যাসে ‘যাত্রা’-পথে শামিল অধ্যাপক রায়হান। তার স্ত্রী বিনু, দুই সন্তান, পঙ্গু হাসান, সকিনা, লীলা। কোথায় যাত্রা করছে তারা? পঁচিশে মার্চের রাতে হাতে-পায়ে গুলি লাগার পর পালিয়ে এসেছে এ পথে। ভয়াল রাতের কাহিনি। যুদ্ধদীপ্ত মন সারাক্ষণ সশস্ত্র লড়াইয়ের দিকে ইঙ্গিত করে রাখে। উপন্যাসে কেন্দ্রীয় চরিত্র রায়হান। অধ্যাপক রায়হানের মধ্যবিত্ত দোটানা আছে, নিরাপদ আশ্রয়ে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে নির্ঝঞ্ঝাট থাকতে চায় সে। কোনো সময়ই কর্তব্যের টানে বৃহত্তর স্বার্থে আত্মনিয়োগ করার সাধ্য নেই তার। উপন্যাসজুড়ে রায়হানের চলাফেরা স্ত্রী-পুত্রকেন্দ্রিক এবং বাড়িতে পৌঁছানোর চিন্তায় সে সারাক্ষণ তটস্থ। ফ্রন্টযুদ্ধের দায়িত্ব রায়হান প্রত্যাখ্যান করে। অবশেষে ফার্দিনান্দের সঙ্গে ঢাকা ফিরে যায়, টাকার জন্য। এমন দুর্যোগে টাকাই তো রক্ষাকবচ! ‘রাত তখন দুটো হয়ে গেছে। চরাচর ভয়ানক নিঃশব্দ। গ্রামগুলো অন্ধকার, এপ্রিলের আকাশে মধ্যরাতে তারার আলো কিঞ্চিত ধোঁয়াটে। সামনে আরেকটা গ্রাম, আরও লোকালয়। ভয় সন্ত্রাসের মধ্যে মানুষ হয়তো ঘুমিয়ে পড়েছে। এপ্রিলের তিন তারিখ পড়ল আজ। রায়হানের মনে পড়ল, এখান থেকে কয়েকটা দিন পর আমি ফিরব। কাল সকালে আমার যাত্রা শুরু হবে… পৃথিবীর অলক্ষ্যে যাত্রা শুরু হবে। শেষ কোথায় জানি না।’ যাত্রা উপন্যাসে শহরের বাইরে মুক্তিযুদ্ধে; মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এবং গ্রামীণ পটভূমিতে তাদের জীবনভাবনায় প্রেমমুগ্ধ দৃষ্টিতে সূর্যোদয়ের জন্য অপেক্ষা : ‘জখম শরীর, এক হাতে রাইফেলÑ জানালা দিয়ে দেখতে পায়Ñ নদীর ওপারে, দিগন্ত রেখার কাছে তখনো তুমুল গুলি হচ্ছেÑ গ্রাম জ্বলছে, হাট জ্বলছে, খামারবাড়ি জ্বলে যাচ্ছে। দুজনেই দেখতে পায়Ñ লেলিহান শিখা, ধোঁয়ার কু-লী এবং বিবর্ণ সূর্যোদয় হচ্ছে।’

শওকত আলীর প্রদোষ প্রাকৃতজন নিছক উপন্যাসে নয়; জীবনপ্রবাহ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পরোক্ষভাবে ইঙ্গিত করেছেন বর্তমান দ-মু-ের অবক্ষয়িত পশ্চাৎপদ রাজনীতির পূর্বাপর ইতিহাসকে। এ এক অর্থে ‘দায়’। শ্যামাঙ্গ কেন বিল্বগ্রাম থেকে বিতাড়িত হলো, গুরু বাসুদেবের ব্রাত্যনিগ্রহ কীভাবে তাকে পীড়িত করেছে সেই প্রমাণ আছে উপন্যাসে। শোষণ-নিগ্রহণ আছে; দ্বন্দ্ব-সংঘাতে প্রাকৃতজনরা প্রাণে বেঁচে থাকে; শিল্প-সুষমায় তাদের সত্তা প্রাণায়িত হয়, প্রেমের প্রবাহ তাদের জীবন নতুন সঞ্জীবনী ধারায় স্নাত করেÑ কালের ধারায় তাদের ইতিহাস নির্মিত হয়। রাজনীতি পরোক্ষভাবে তাদের চেতনা নিয়ন্ত্রিত করে। পুনর্ভবা তীরে শিথিল বাসনা নারীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় শ্যামাঙ্গের, যার সাক্ষাতে তার চেতনায় সঞ্চিত হয় ‘সোমপুরের মঞ্জুশ্রী মন্দিরে দেখা পীবরস্তানী যক্ষিণী মূর্তিটি’র। শ্যামাঙ্গ নিজের মাধুরীতে অঙ্কন করে যোগীভিক্ষু, মৃগয়া প্রত্যাগতা ব্যাধরমণী, শাস্ত্রানুশাসন বিচ্যুত হয়ো না।’ শাস্ত্রানুশাসন আর দেবতার পীঠস্থান জ্ঞান করে বাসুদেব মন্দির গাত্রের মৃত্তিকাপট থেকে ব্রাত্যজন নির্বাসিত করলেন। শ্যামাঙ্গ বিস্মিত হয়ে পবিত্র-অপবিত্রের প্রশ্নটি বাসুদেবের সামনে তুলে ধরলেÑ বাসুদেব তার সাধনাকে দলিত করেছে। কিরাত জাতের গড়া মন্দির ক্ষত্রিয় রাজার জয়ে কীভাবে কুক্ষিগত হয়েছিল দেউলের অঙিনা, পূজারিদের রক্তে ভাসিয়ে কীভাবে মন্দিরের প্রবেশপথ রুদ্ধ করা হয়েছিল, শ্যামাঙ্গ তা জানে না। এ সময়ের রাজশাসনে পীড়িত প্রজার যুক্তকর মুক্ত করার উপায় নেই। প্রদোষকালের এ মানুষগুলো সামন্ত মহাসামন্তদের ক্রীড়নকে পরিণত হয়েছে, ভয়ঙ্কর অস্থির সময় অতিক্রম করছে; পুনর্ভরা-আত্রেয়ী তীরে পিপ্পলীহাটের মতো অসংখ্য ঘটনা ঘটছে, জীবনের নিরাপত্তা নেই, শোষণ-পীড়নের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস প্রকম্পিতÑ বাঁচার জন্য জীবনের যে তৎপরতা, তার শেষ পরিণতি কিÑ কেউ জানে না! প্রদোষে প্রাকৃতজনের নায়িকা লীলাবতী সম্পর্কে লেখক বলেন : ‘রাষ্ট্র বিপ্লব সম্পর্কে তার ধারণা নেই, যুদ্ধ কাকে বলে তাও সে কল্পনা করতে পারে না। তবে আসন্ন কোনো বিপদের আশঙ্কা যে তার মাতুল করছেন, সেটা সে বুঝতে পারে।’ এভাবেই শোষকের বেড়াজালে ক্রমেই বন্দি হয়ে পড়ে সবাই। ব্যক্তি-উন্মোচনে সেখানে প্রশ্ন আসছে কিন্তু ইতিহাসের সাক্ষ্য হয়ে আছে যে প্রশ্নÑ কিরাত আজ কেন অস্পৃশ্য। শ্যামাঙ্গরা কেন বিল্বগ্রাম ত্যাগ করল কিংবা নতুন পূজাবিধির আড়ালে ব্রাত্যজন কেন মন্দিরের বাইরে? তার উত্তর যে বহমান সময়ের আড়ালে রাজনীতির হাতে বন্দি। দীর্ঘ ধারাবাহিক শোষণ-নিপীড়ন আশ্রিত এ ব্রাত্য জীবনাগ্রহ একটি দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক চেতনার পারস্পরিক ফল। প্রদোষে প্রাকৃতজন এমন চেতনা থেকেই গুরুত্ববহ।

শ্যামাদাসের বা লীলাবতীর মুখের জন্য স্বতন্ত্র এক গদ্য নির্মাণ করেন শওকত আলী। ব্রাহ্মণ্য তা-বের কাহিনি, মুক্তবুদ্ধির চর্চায় আহত শ্যামাঙ্গ আর পুনর্ভবা আত্রেয়ী তীরের ভাষা আঙ্গিকনির্ভর ব্যাখ্যায় পাঠক চলে যান তুর্কি শাসনামলে : ‘শ্যামাঙ্গের প্রত্যয় হয় না। লীলাবতীর কথার অর্থ সম্যক বোঝা তার পক্ষে কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। সে ভালো করে দেখে; সোমপুরের মঞ্জুশ্রী মন্দিরের দেখা পীবরস্তনী যক্ষিণী মূর্তিটি, যেন সে দেখতে পাচ্ছে চোখের সম্মুখে। হ্যাঁ, ওই প্রস্তর মূর্তিটির মতোই ঋজু শান্ত এবং কঠিন সে মুখপানে চেয়ে বিভ্রান্ত বোধ করে। কিছু বলতে পারে না। যতেœ আঁকা সীমন্তের ওই উজ্জ্বল সিন্দুর রেখাটি তাহলে কেন? যদি সে স্বামীর জন্য উদ্বিগ্ন না হবে?’ স্মর্তব্য যে, এটি বঙ্কিমচন্দ্রের ভাষা নয়; শওকত আলী বিষয় অনুষঙ্গী উদ্ভাবিতÑ স্বনির্মিত ভাষা। আর তাতে প্রাকৃতজনের প্রতিবাদী ভাবনাই শুধু নয়; প্রেম, সংগ্রাম, দ্বন্দ্ব, নৈরাশ্যÑ সর্বোপরি শক্তি ও সাহসে বেঁচে থাকা সাধারণ মানুষদের ছবি আঁকেন তিনি।

শওকত আলী দেশভাগের প্রেক্ষাপটে লেখেন ওয়ারিশ (১৯৮৯)। এতে দেশান্তরী মানুষ, রাজনৈতিক স্বেচ্ছাচারী, অনাচার বঞ্চনার প্রতিচ্ছবি প্রতিফলিত। এ ছাড়া দলিল (২০০০), সম্বল (১৯৮৬), গন্তব্য অতঃপর (১৯৮৭), ভালবাসা কারে কয় (১৯৮৮), যেতে চাই (১৯৮৮), বাসর ও মধুচন্দ্রিমা (১৯৯০), উত্তরের খেপ (১৯৯১), বসত (২০০৫) প্রভৃতি তার উল্লেখনীয় রচনা। একজন সিরিয়াস কথাকার হিসেবে বাংলাদেশের কথাসাহিত্যে সন্দেহাতীতভাবে তিনি অগ্রগণ্য লেখক। তার লেখালেখি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও বড় কাজের বেশ সুযোগ আছে।

এই খবর গুলিও পড়তে পারেন