নতুন বছরে নতুন ফ্যাশন

প্রচ- শীতকে সঙ্গী করে শুরু হলো নতুন বছর। প্রতিবছর ফ্যাশনধারা থেকে কিছু ফ্যাশন বিদায় নেয়, যুক্ত হয় নতুন কিছু। ফ্যাশন দুনিয়ায় নতুন বছর মানে নতুন ট্রেন্ড। চলুন জেনে নেওয়া যাক নতুন বছরে পোশাকে নতুনত্বের খবর। ফ্যাশন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে লিখেছেনÑকেয়া আমান

শীতটা বেশ জেঁকে বসেছে। তাই বলে কি আর নিমন্ত্রণ কিংবা উৎসব অনুষ্ঠান বন্ধ আছে। নতুন বছরে পার্টি কিংবা দাওয়াতে নতুনত্ব আনতে চাইলে খোঁজখবর রাখা প্রয়োজন ফ্যাশন ট্রেন্ড সম্পর্কে। নতুন বছর মানেই পুরো ফ্যাশনটা রাতারাতি বদলে যাবে এমন নয়। কিছু নতুন, কিছু পুরনোর মিশ্রণে শুরু হবে আরেকটি বছর। ফ্যাশন দুনিয়া সে রকমটাই জানাচ্ছে। কয়েক বছর ধরেই ফ্যাশনে ফিউশনের জয়জয়কার। এটা থাকবে এ বছরও। গেল বছরের মতো এবারও মূল পোশাকের চেয়ে পোশাকের প্যাটার্ন কিংবা কাটছাঁটে বেশি পরিবর্তন লক্ষ করা যাবে।

লম্বা গাউনে গত বছর অনেকেই নিজেকে সাজিয়ে নিয়েছেন একদম ভিন্ন লুকে। নতুন বছরেও বিভিন্ন পার্টিতে ঝলমলে থাকতে পারেন লং গাউনে। লং গাউন, কামিজ, ফতুয়া, টপসের ওপর নতুন বছরেও পরতে পারেন বিভিন্ন নকশার কোটি। শীতটা মানবে, ফ্যাশনও চলবে। কামিজে ফুল লেন্থ চলবে। বছরের শুরুতে বিভিন্ন ক্যাজুয়াল অনুষ্ঠানে নজর কাড়তে পারেন স্কার্টে। গত বছরের জনপ্রিয় এ ফ্যাশন মাত করবে চলতি বছরও। তবে এ বছর নতুনরূপে হাজির হবে স্কার্ট। স্ট্রেট স্কার্ট, খাটো স্কার্ট, বেল শেপ, এ লাইন স্কার্ট, প্রিন্ট স্কার্ট, সার্কেল স্কার্টে ফ্যাশনেবল থাকতে পারেন এ বছর। শীতে উষ্ণতা পেতে এবং স্টাইলিশ থাকতে স্কার্টের ওপর চাপিয়ে নিতে পারেন লেদার কিংবা ডেনিম জ্যাকেট। শীত ফ্যাশনে ছেলেমেয়ে সবাই ব্যবহার করতে পারেন রিপড জিন্স। মেয়েদের ফ্লোরাল প্রিন্টের ডেনিম, ছেঁড়া নকশার জিন্স এবার জনপ্রিয় থাকবে।

কথা হয় ফ্যাশন ডিজাইনার এমদাদ হকের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘সময়ের সঙ্গে বদলে যায় ফ্যাশনও। এ বছর সব ধরনের পোশাকে ডিজিটাল প্রিন্ট জনপ্রিয়তা পাবে। কারণ আন্তর্জাতিকভাবে এখন ডিজিটাল প্রিন্টের পোশাক খুব জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। মেয়েদের পোশাকে বেশি ঘের প্রাধান্য পাবে। পাশাপাশি কম ঘের ফ্যাশনে কিছু কিছু প্রবেশ করতে শুরু করবে। স্ট্রেট কাটে অনেক ভেরিয়েশন আসবে। ছেলেদের পাঞ্জাবিতে এবার ভেরিয়েশন আসবে। টাইডাই, ডিজিটাল প্রিন্ট, ক্যানভাস মোটিফের পাশাপাশি নকশিকাঁথা, শীতলপাটি, সোনারগাঁর মতো গ্রামীণ এবং নাগরিক মোটিফে প্রচুর কাজ দেখা যাবে।’

একটু ঢিলেঢালা পোশাকের প্রতি আগ্রহ থাকবে তরুণ-তরুণীদের। গেলবার লেয়ার কাটের বেশ দাপট ছিল। এবারও সেই ধারা অব্যাহত থাকবে। কামিজের সামনে-পেছনে লেয়ার নজর কাড়বে। কেইপের জনপ্রিয়তায় কিছু ভাটা পড়বে। তরুণীদের পোশাকের কোল শোল্ডার বেশ চলছিল। এবার কোল শোল্ডারের বদলে হাঁটু অবধি লম্বা কামিজ আসবে। পোশাকে ফ্রিল জনপ্রিয়তা পাবে। বৈচিত্র্যময় কাটছাঁটের পোশাকের সঙ্গে শীতের নিমন্ত্রণে বেছে নিতে পারেন চুড়িদার, পেন্সিল, সারারা কিংবা লুজ প্যান্ট।

লা-রিভের জ্যেষ্ঠ ডিজাইনার বিপ্লব বিপ্রদাস বলেন, ‘এবার পোশাকের সিøভে বৈচিত্র্য আসবে। ফুল সিøভটা কিছুটা খাটো হবে। পোশাকের নেকলাইনে ভেরিয়েশন আসবে।

কুঁচি বা প্লিট নানাভাবে ব্যবহার হবে। সারারা, গাউন, আনারকলি, টিউনিক, কুর্তিসহ বিভিন্ন পোশাকের হাফবডির নিচের দিকে কুঁচি থাকবে। ঘেরও বেশি থাকবে।’

ওয়েস্টার্ন পোশাকে স্মার্ট থাকতে পারেন শীত ফ্যাশন থেকে সারা বছরই। গত বছর মেয়েদের শার্টে যোগ হয়েছে নতুনত্ব। টিউনিকের আদলে তৈরি হয়েছে শার্ট। এ বছরও লং প্যাটার্ন শার্টের পাশাপাশি টপস এবং টিউনিক জনপ্রিয় থাকবে। লং প্যাটার্ন শার্টে ফুলের নকশা তো থাকবেই, সঙ্গে যোগ হবে পলকা ডট, বিমূর্ত, ডিজিটাল প্রিন্টসহ বিভিন্ন নকশা।

‘কয়েক বছর ধরে সিøমফিটেড পাঞ্জাবির বেশ চাহিদা ছিল। এবার পাঞ্জাবির রেগুলার বেসিক কাট দেখা যাবে। শাার্টের আদলে পাঞ্জাবি তৈরি হবে। নেক লাইন, বর্ডার, পেল্টÑ এগুলোতে ডিজিটাল প্রিন্টের ছোঁয়া থাকবে। হাফ ও ফুলহাতার ডিপ ডাই, কুল ডাই শার্টের কদর থাকবে। টি-শার্টে প্রিন্টের চেয়ে অর্থবোধক লেখা প্রাধান্য পাবে’Ñ বলে জানান ইজির কর্ণধার ও ফ্যাশন ডিজাইনার তৌহিদ চৌধুরী।

জমকালো সাজে শাড়ির যেন বিকল্প নেই। গত বছর সিল্ক, কাতান, তাঁতের শাড়িতে ডিজাইনে ভিন্নতা ছিল দেখার মতো। এ বছর শাড়িতে মিক্সড উইভিং চলে আসার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন ফ্যাশন ডিজাইনাররা। চলবে সিল্ক, টাঙ্গাইল, তাঁত প্রভৃতিও। কয়েক বছর ধরে শাড়ির আঁচল, জমিনে নকশার ওপর বেশ গুরুত্ব দিচ্ছিলেন ডিজাইনাররা। এবার সেটা কমে যাবে। আঁচল, জমিনের তুলনায় এবার শাড়ির পাড় বেশি গুরুত্ব পাবে। চওড়া পাড়, ছোট আঁচল বেশি দেখা যাবে।

ফ্যাশন হাউস নিত্য উপহারের ডিজাইনার ও স্বত্বাধিকারী বাহার রহমান মনে করেন, ‘প্রিন্টের ব্যবহার কিছুটা কমে গিয়ে এবার থিমভিত্তিক পোশাকের চাহিদা বাড়বে। বিভিন্ন ধরনের জিওমেট্রিক ফর্ম মোটিফ হিসেবে প্রাধান্য পাবে। লেস ও প্যাঁচওয়ার্কের কাজ বাড়বে। একরঙা পোশাকের ব্যবহার কমে গিয়ে স্ট্রাইপ চলে আসবে। সাদা ছাড়াও বিভিন্ন হালকা রঙ প্রাধান্য পাবে। পাশাপাশি লাল, কমলা, হলুদের মতো কয়েকটি গাঢ় রঙও জনপ্রিয় থাকবে।’

এই খবর গুলিও পড়তে পারেন