তাহিরপুর বাঁধের কাজে অনিয়ম লক্ষ-লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:


সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার গুরমার হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম। অনিয়ম করে ছাড়াও পাচ্ছে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) । বাঁধের গুড়া থেকে মাটি উত্তোলন করে নির্মাণ হচ্ছে ফসল রক্ষা বাঁধ। বাঁধের মাটি বাঁধে দিয়ে চলছে বাঁধ নির্মাণ। অনিয়মের পরেও ছাড় পাচ্ছে পিআইসি’র কমিটি। সরকারের বিভিন্ন কর্মকর্তা পরিদর্শন করে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলছে স্থানীয় কৃষকরা।

এসব অনিয়মের বিষয়টি চোখে পরে হাওর ঘুরে দেখার মাধ্যমে । অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি ২৬,৪১,৪২,৪৩,৪৪,৪৫,৪৬,নং পিআইসি’র উপর। কাবিটা নীতিমালা ২০১৭ অনুযায়ী মোঃ রাকিবুল হাছান (উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব) বলছেন বাঁধের মাটি বাঁধ হতে কমপক্ষে ১৫ মিটার দূর থেকে উত্তোলন করতে হবে। কিন্তু ২৬,৪১,৪২,৪৩,৪৫,৪৫,৪৬ নং প্রকল্পের সদস্যরা বাঁধ হতে আনুমানিক অনেকেই ১০-১৫,১৫-২০,২০-৩০ ফুট দূর থেকেই মাটি উত্তোলন শুরু করেছে। এনিয়ে দুশ্চিন্তায় আছে কৃষক।

উল্লেখ্য যে, ২০১৭ সালে হাওরে বন্যায় ব্যাপক ফসলহানীর পর হাওরবাসীর দাবীর প্রেক্ষিতে সরকার কাবিটা নীতিমালা-২০১৭ প্রণয়ন করে। নীতিমালায় হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজে ঠিকাদারি প্রথা বাতিল করে সম্পূর্ণরূপে কৃষকদের সমন্বয়ে পিআইসির মাধ্যমে বাঁধ নির্মাণ করার নীতি প্রবর্তন করেন।

এ নীতিমালায় আগের চেয়ে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ অনেক ভালো হচ্ছে বলে জানান কৃষকরা। তবে নির্ধারিত ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারলে এবং তাড়াহুড়োর কারণে কাজের মান বজায় রাখতে না পারলে হাওরের ফসল রক্ষা কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়ে যায়। যা কারো কাম্য নয়। এবছর প্রায় অনেক পিআইসি কমিটি নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারবে।

তবে বর্তামানে পিআইসি লাভজনক ব্যবসা হিসেবে রুপ নিচ্ছে। অনেকেই বিভিন্ন ব্যবসা বাণিজ্য ফেলে এসে যুক্ত হয় বাঁধ নির্মাণের কাজে। বরাদ্দকৃত টাকার ৪০-৫০% টাকা দিয়েই কন্ট্রাকে মাটি ভারাট কাজ করছে।

রইছ মিয়া নামক কৃষক জানায়, এভাবে কাছ থেকে বাঁধের মাটি তুললে বাঁধ শক্ত হবে না। এটার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হওক।

অনিয়মের বিষয়ে মোঃ রাকিবুল হাছান
(উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব,উপ-সহকারী প্রকৌশলী/শাখা কর্মকর্তা পাউবো, তাহিরপুর)জানতে চাইলে তিনি জানান, বাঁধের মাটি কমপক্ষে ১৫ মিটার দূর থেকে আনতে হবে। যদি কোনো পিআইসি বাঁধের কাছ থেকে মাটি আনে তাহলে সে উক্ত টাকা গুলো পাবে না।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদ্মাসন সিংহ বলেন, বিষয়টি আমি তাদের সাথে কথা বলে দেখবো।

এই খবর গুলিও পড়তে পারেন