ক্ষণজন্মা এক মহাপুরুষ-হাকীম হাবিবুর রহমান

গরমিল ডেস্ক:

১৮৮১ তে এ ধরায় করেন আগমন।
১৮৯৪ এ মাত্র তের বছর বয়সে,
শিক্ষা অর্জনের উদ্দেশ্যে,
সূদুর ভারতে করিলেন ভ্রমণ।

কানপুর, লাখনৌ, দিল্লি ও আগ্রায়
করিয়া সমাপন দীর্ঘ ১০ বছরের শিক্ষা-ভ্রমণ,
১৯০৩ এ আসিলেন ফিরিয়া,
জ্ঞানপূর্ণ এই বাংলার রতন।

মানব প্রেমিক এই মহাজন
গৃহীত দীক্ষা করিয়া অবলম্বন,
করিলেন সূচনা আর্তের যতন।

১৯০৬ এ বাংলা ও আসামে
সাহিত্য সাংবাদিকতার করিলেন প্রবর্তন।
১৯০৮ এ রাজনীতির এ বরপুত্র বঙ্গে ও আসামে,
মুসলিম লীগের সম্পাদক রূপে হইলেন বরণ।

অন্তহীন প্রতিভায় যার জীবন খানি আঁকা,
রাখা যায় কি তাঁকে ঢাকা?

ঐতিহ্যে ভরা বঙ্গ-সম্পদকে করিতে সংরক্ষণ,
১৯১২ এ করিলেন যাদুঘরের গোড়াপত্তন।
রক্তে-রন্ধ্রে যার শিক্ষার বান,
১৯২১ এ প্রাচ্যের অক্সফোর্ড তাঁকে
সিনেটের সম্মানের আসন করিল প্রদান।

১৯৩০ এ সকল বাধা ঠেলিয়া হইলেন আগুয়ান,
করিলেন প্রতিষ্ঠা বাংলায় প্রথম চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান,
তিব্বিয়া হাবিবিয়া কলেজ নাম তার।

১৯৩৯ এ বেনিয়া ইংরেজ তাঁর চিকিৎসা কীর্তিতে হইয়া মুগ্ধ প্রাণ,
“শেফা উল মূলক” উপাধি করিল প্রদান।
দেশ প্রেমিক ; তাই দেশাত্মবোধে হইয়া পাগল মন,
ইংরেজের উপাধি নির্দ্বিধায় করিলেন বর্জন।

ইউনানী-প্রেমিক এই সুধীজন,
হাকীমদের অধিকার করিতে সংরক্ষণ,
১৯৪০ এ গড়িলেন আঞ্জুমানে আতিব্বা বাঙ্গাল ও আসাম সংগঠন।

বহুমুখী প্রতিষ্ঠাধর এ মহাজন,
চিকিৎসা, শিক্ষা, সাহিত্য, ইতিহাস,
রাজনীতি, সমাজসেবা আরও কত শত
ক্ষেত্র করিয়া ভ্রমণ,
১৯৪৭ এ মহাযাত্রায় করিলেন প্রস্থান।

তিনি তো আর কেউ নন,
উপমহাদেশের জ্যোতির্ময় এক উজ্জ্বল নক্ষত্র,
নাম তাঁর হাকীম হাবিবুর রহমান।।

(হাকীম মোহাম্মদ রুহুল আমীন
প্রভাষক, তিব্বিয়া হাবিবিয়া কলেজ, ঢাকা)

এই খবর গুলিও পড়তে পারেন