শেষ হয়নি ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ,হয়নি সংবাদ সম্মেলন

তাহিরপুর প্রতিনিধি:


নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে অতিরিক্ত বেধে দেওয়া সময়ও পেরিয়ে আরো অতিরিক্ত প্রায় ১মাস হয়ে গেলেও সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে বোরো ফসলরক্ষা নির্মাণকাজ এখনো সম্পূর্ণ শেষ হয়নি। হয়নি সংবাদ সম্মেলনও। ৭ই মার্চ সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে হাওরের ফসল রক্ষাবাঁধের কাজের অগ্রগতি নিয়ে জেলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট বিভাগের কমিশনার মশিউর রহমান হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ শেষ হলেই সংবাদ সম্মেলন করে জনগণকে জানাতে উপজেলা কমিটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন।

এ আশাও পূর্ণ হয়নি কৃষকের। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির বিভিন্ন প্রকল্পে রয়েগেছে ড্রেসিং ও দরমুজ ও ঘাস লাগানুর কাজ । উপজেলার শনির হাওর ও মাটিয়ান হাওরে আজও কৃষকের ফসল অনিরাপত্তা হীন রয়ে গেছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নীতিমালা অনুযায়ী ২৮ ফেব্রুয়ারি বাঁধের কাজ শেষ করার কথা ছিল। এসময় হাওর পরিদর্শন করে বাঁধের কাজে পানিসম্পদ উপমন্ত্রী একে এম এনামুল হক শামীম সাত দিন সময় বাড়িয়ে দেন। কিন্তু সেই সময়েও কাজ শেষ করা হবে দুরের কথা অতিরিক্ত সময় প্রায় একমাস হয়ে গেলেও বাঁধের কাজ শেষ হয় নি। রয়েগেছে অনেক প্রকল্পের কাজ। যার ফলে কৃষকের রাতের ঘুম হারাম হয়ে যাওয়ার পথে। সাথে সাথে প্রতিদিন নদীতে বাড়ছে পানি। হচ্ছে সামান্য বৃষ্টিও। অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে নদীর পানি বেড়ে হাওরের ক্ষতি হতে পারে বলছেন স্থানীয় কৃষক।

উল্লেখ্য যে, ২০১৭ সালে হাওরে বন্যায় ব্যাপক ফসলহানীর পর হাওরবাসীর দাবীর প্রেক্ষিতে সরকার কাবিটা নীতিমালা-২০১৭ প্রণয়ন করে। নীতিমালায় হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজে ঠিকাদারি প্রথা বাতিল করে সম্পূর্ণরূপে কৃষকদের সমন্বয়ে পিআইসির মাধ্যমে বাঁধ নির্মাণ করার নীতি প্রবর্তন করেন। এ নীতিমালায় আগের চেয়ে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ অনেক ভালো হচ্ছে বলে জানান কৃষকরা। তবে নির্ধারিত ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারলে এবং তাড়াহুড়োর কারণে কাজের মান বজায় রাখতে না পারলে হাওরের ফসল রক্ষা কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়ে যায়। যা কারো কাম্য নয়। আজও কোনো হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ সম্পূর্ণ হয় নি।

স্থানীয় কৃষক ও সুশীল সমাজ বলছে, আজও কাজ শেষ হচ্ছে না। যা পরবর্তী সময়ে ফসল হুমকির মধ্যে পরতে পারে। হাওরের ফসলের দিকে শত-শত পরিবার চেয়ে আছে ফসলের কোনো ক্ষতি হলে তার দায় বার কে নেবে? যদি হাওরের ফসলের কোনো ক্ষতি হয় ফসলের সম্পূর্ণ দায় বার পিআইসি দের নিতে হবে। নানান প্রশ্ন জাগে সর্বসাধারণের মনে।

রাশেদ নামক কৃষক বলেন, বাঁধের কাজ যত দ্রুত শেষ হবে ততই আমাদের ফসল নিরাপদ হবে। কারণ আমাদের ফসল রক্ষা বাঁধ দিন দিন মজবুত হবে।

কৃষক রফিক জানান, নদীতে প্রতিদিন পানি বেড়েই চলেছে। কিন্তু বাঁধের কাজ এখনো শেষ হয় নি। না জানি কপালে কি আছে?

কৃষক মাইনুদ্দিন বলেন আমাদের হাওরের ফসল গুলাতে আমার হাঁসি ফুটতেছে,ফসলে ধান বের হইতেছে। আমদের চোঁখের সামনে যদি ফসলের ক্ষতি হয় তাহলে কি নিয়ে বাঁচবো ।

এবিষয়ে মোঃ রাকিবুল হাছান (উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব,উপ-সহকারী প্রকৌশলী/শাখা কর্মকর্তা পাউবো, তাহিরপুর) জানান, অফিসের নির্ধারিত সময় ৭ই মার্চ শেষ হয়েছে। তবে হাওরের কাজ ৯০ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি রয়েছে ১০ ভাগ কাজ। ঘাস, বাঁশ, বস্তা লাগানু বাকি রয়েছে। আশা করি দ্রুতই কাজ সম্পন্ন হবে।

এই খবর গুলিও পড়তে পারেন